আমার প্রথম সমুদ্র দেখা


পুরী যান নি এমন বাঙ্গালী কমই আছে ৷ বেশির ভাগ বাঙ্গালীর দিপুদা দিয়েই শুরু হয় ভ্রমন৷ বাঙ্গালীর দ্বিতীয় ঘড় ৷ আমার ও হাতেখড়ি পুরী দিয়ে৷  আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে ট্রেন ছিল না বা খুব কম ছিল৷ তখন বাসে করে যেতে হত পুরী৷ এখন বাসে পুরী যাওয়া প্রায় উঠে গেছে৷

১৯৮৬ এর সরস্বতী পুজোর বিকেলে মামা এসে জানাল আজকে রাতে মামারা সবাই পুরী যাবে বাসে করে, রাত ৮ টার সময় বাস ছাড়বে, এখনও ৪-৫ টা সিট খালি আছে৷   মামা মাকে রাজি করিয়ে নিল ৷ এখন কিছু দিতে হবে না৷ শুধু ৪দিনের খাওয়া আর হাত খরচ নিলে হবে৷ বাস ও হোটেলের খরচ পরে হিসেব হবে৷ হঠাৎ ঠিক হওয়াতে বিশ্বাস হচ্ছিল না৷ অন্যদিন রাতের  খাবার গুলো পেটে ঢোকে না আজকে যেন হরহরিয়ে চটপট পেটে ঢুকে গেল; পড়ার বই চোখের সামনে আসার সাথে সাথে চোখ বন্ধ হয়ে যেতো ; আজকে যেন ঘুম ঘুমিয়ে পড়েছে ৷ আমরা রেডি হয়ে চলে এলাম মামা বাড়ি , ওখান থেকে বাস ছাড়বে৷ সঠিক সময়ে বাস ছাড়ল৷ বাসের সবাই কে চেনা৷ পাড়ার অনেকে দাঁড়িয়ে আছে বিদায় জানাতে৷ সবাই হাত নাড়িয়ে বিদায় ও শুভেচ্ছা জানাল ৷

সাড়া রাত বাস জার্নি করার পর অধৈর্য হয়ে পড়লাম৷ পথ আর শেষ হয় না৷ মামা আর কত দুর? এইতো এসে গেছি৷ সে তো তুমি অনেক্ষন ধরেই বলছ ৷ না, এবার সত্যি বাস থামল৷ দুপুরে কোনারক পৌঁছলাম ৷ মন্দির দেখার আগে দুপুরের খাওয়া সাড়া হল৷ সবাই মিলে কোনারক মন্দির দেখলাম ৷ এ’রকম ধরনের রথ মন্দির দেখে শিশু মনে প্রবল নাড়া দিয়েছিল৷ আমার খুব ভাল লাগল৷ এখন যেমন দোকানের ভিড়ে ভিড়াক্রান্ত তখন এমন ছিল না৷ ঝাউ গাছের বনের মধ্যে  অপূর্ব সুন্দর একটি রথমন্দির ৷ মনে হচ্ছিল এক্ষুনি রথ চলবে৷

বাসে করে বিকেলে প্রবেশ পূরী তে৷ সমুদ্রের ঢেউ দেখে মন প্রাণ আন্দোলিত হতে লাগল৷ কি অপুর্ব শোভা৷ প্রথমে ভয় পেলেও পরে একছুটে নেমে পড়লাম  বালুকাময় বেলাভুমিতে৷ জীবনের প্রথম সমুদ্র দেখা ৷ কি আনন্দটাই না হচ্ছে৷ কত ছোট ছোট কাঁকড়া বেলাভুমিতে ঘুড়ছে ৷ কাছে গেলেই ঢুকে যাচ্ছে গর্তের ভিতর৷ সবাই কি সব যেন কুড়াচ্ছে ৷ শামুক ৷ আমিও কুড়াতে শুরু করলাম৷ প্রথম বার জ্যান্ত শামুক ধরলাম ৷ মা কিছুতেই ছাড়তে চায়না ৷ একটু পরেই সূর্যাস্ত হবে৷ সবাই তাকিয়ে আছে পশ্চিম আকাশের দিকে ৷ কি অপূর্ব ই না দেখতে ৷ এমন সূর্য কলকাতায় কখনো দেখিনি ৷ আমাদের পরে একটি বাস এলো সেই বাস থেকে সবাই নামছে কাঁদতে কাঁদতে৷ মামার থেকে জানতে পাড়লাম ঐ বাসে ডাকাতি হয়েছে৷ বাস থামিয়ে ডাকাতেরা সব লুট করেছে ৷ এমন সময়ে আমাদের বাসের এক সহযাত্রী মামা এসে বলল হোটেল ঠিক হয়ে গেছে৷ সবাই চললাম লাইন করে ৷ ব্যাগ পত্র নিয়ে ৷ এরপর দিন সূর্যোদয় দেখা , স্নান করা এবং পূজা দেওয়া, রিক্সা করে মাসীর বাড়ি, পিসির বাড়ি, চৈতন্য মহাপ্রভুর বাড়ি যাওয়া ৷ হাতে যন্ত্র কানে মন্ত্র অফিস ৷ সেটা কি? টেলিফোন অফিস৷ তখন এই নামেই ডাকতো৷ ধাইকিরিকিরি আওয়াজে গমগম রাস্তা৷ এই সব নিয়ে এক সময়ে ছিল পুরী৷ এখনকার মেরিন ড্রাইভ অঞ্চল টা ছিল ঝাউ গাছের বন ৷ বিকেলে বসত রঙবাহারী দোকান ৷ এখনও বসে৷ আর পূরীর বিখ্যাত গজা ৷ যা দাঁতের পরীক্ষা জন্য বলে মনে হয়ে ছিল৷  তখন কাকাতুয়া ছিল কি ? মনে আসছে না৷ আমরা গজা কিনেছিলাম মন্দিরের পাশ থেকে৷  সবার সেরা  ছিল সমুদ্রে স্নান ৷ আমার প্রথম দেখা সমুদ্র৷ এখন পূরী যাই শুধুই স্নান করতে ৷ আমার ছোটবেলা কে আবার দেখতে পাই এখানেই ৷ তাই পূরী চিরনবীন ৷ সেই সময় ক্যামেরা ছিল না তাই ছবিগুলি পরবর্তী সময়ের তোলা ৷

এখন যাওয়া- ট্রেনে - প্রতিদিন ধৌলি ; জগন্নাথ ও পুরী এক্সপ্রস ছাড়াও অনেক ট্রেন আছে

এখানে পূরীর বিভিন্ন হোটেলের নাম সহ ম্যাপ দেওয়া হল সৌজন্যে অজয় মন্ডলের হলিডে হোমের খোঁজ খবর ৷














.
...
.
#puri #orissa #Odisha #sealda #Howrah #jagannath #temple #lingaraj #buddha #konark #sun
#পুরী #উড়িষ্যা#ওড়িশা #শিয়ালদা #হাওড়া #জগন্নাথ #লিঙ্গরাজ #বুদ্ধ #কোনারক #সূর্য #মন্দির.