বেড়ানোর গল্প – সিল্ক রুট (পূর্ব সিকিম)
ভূমিকা (২৭-০৫-২০১৬)




আবার একটা গরমের ছুটি | ঠিক এক বছর পেরিয়ে | আমার নয়, বাচ্ছাদের স্কুলের ছুটি | কিন্তু পালিয়ে যাবার চিন্তা কেবল আমার | শহর থেকে, ভীড় - গরম থেকে , কাজের চাপ থেকে, দমবন্ধ করা গ্রতিদিনের চেনা পরিবেশ - পরিস্থিতি থেকে | হ্যাঁ, আবার বেড়াতে যাচ্ছি |

এই এক বছরে বদলে গেছে কত কিছুই পৃথিবী জুড়ে | পারিবারিক , সামাজিক , ব্যবসায়িক | গতবার গিয়েছিলাম ডুয়ার্স | আমরা সবাই - মানে আমার মা, বউ, মেয়ে, ছেলে, শাশুড়ি মা, শ্বশুড়মশাই | বাবা চলে গেছেন অনেকদিন | কিন্তু বেড়ানোর সময় এলেই তাঁর কথা বেশী করে মনে পড়ে | কেননা বেড়ানোর নেশা রক্তসূত্রে তাঁর থেকেই পাওয়া | এবারে শ্বশুড়মশাই ও নেই | ডিসেম্বরে তিনি হঠাৎ করে চলে গেলেন | আর শাশুড়ি মা আপাতত হায়দ্রাবাদে দাদার কাছে |

গত কদিন ধরেই জোড় প্রস্তুতি | কেনাকাটা, ব্যাগ গোছানো, লিস্টি মিলিয়ে দেখা কিছু ভুল হল কিনা | ছেলে মেয়ের খুব উত্তেজনা | প্রতিদিনই কাউন্টডাউন |


অবশেষে আজ যাত্রা শুরু | উবেরে চেপে হাওড়া স্টেশন | শতাব্দীতে নিউ জলপাইগুড়ি | আগামীকাল সকালে রওনা দেব গাড়ীতে | গন্তব্য পূর্ব সিকিম |

 
সিল্ক রুট পূর্ব সিকিম এবং অধুনা তিব্বতের লাসা কে যুক্ত করেছে নাথুলা এবং জেলেপ লা পাস এর মাধ্যমে | সিল্ক রুটের ঐতিহাসিক তাৎপর্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সভ্যতার বিনিময় - বিশেষত চীনা, ভারতীয়, ফার্সি, আরব, প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির আদান প্রদান |


এই সিল্ক রুট ও তার আশেপাশের অঞ্চল এবার আমাদের ভ্রমন তালিকায় |

সিকিম আগে আমি বহুবার এসেছি | বেড়াতে এবং ব্যবসায়িক কারনেও | কিন্তু সে সবই গ্যাংটক বা পেলিং ঘিরে | এবার তাই কিছুটা নতুন, অজ্ঞাত বা স্বল্প পরিচিত জায়গাতে যাবার পরিকল্পনা |


আর এবারই প্রথম বেড়ানোর গল্প লেখার চেষ্টা বাংলায় :


"চার দেয়ালের গন্ডী ছেড়ে,

সদলবলে জুটি |

ব্যস্তবাগীশ শ্রান্তি ঝেড়ে,

গ্রীষ্মকালীন ছুটি |

দিনকয়েকের অব্যাহতি,

অর্থ চেয়ে দামী |

সমতলের পাহাড় মতি ,

আমরা সিকিম গামী |"