Churn : Universal Friendship Log in

PEACE , LOVE and UNITY


Share

descriptionবাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz

ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য





আমি গত ৭ই অক্টোবর থেকে গতকাল ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সড়কপথে ভুটান এবং ইন্ডিয়া ট্রাভেল করি. আমার একটা অনুভূতি হলো ভুটান যাত্রার জন্য কম্প্রিহেনসিভ কোনো তথ্য আমি যাওয়ার আগে খুঁজে পাইনি। যে কারণে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে প্রত্যেকটি ধাপ আলোচনা করার জন্য মনস্থির করলাম যদি ভ্রমণপিয়াসী কারো উপকারে আসে। একবারে পুরোটা আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পার্ট বাই পার্ট করতে হচ্ছে।  তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব। Happy Traveling Smile

.
প্রথম পর্ব:

ভিসা:
সড়ক পথে যেতে হলে আপনাকে ইন্ডিয়ার "ডাবল এন্ট্রি ট্রানজিট ভিসা" নিতে হবে।  সেজন্য আপনাকে কোন ই-টোকেন নিতে হবে না, শুধুমাত্র অনলাইন এ ফর্ম ফিল আপ করে, প্রিন্ট আউট নিয়ে সকাল ৯টা  থেকে দুপুর ১টার মধ্যে গুলশান -১ এ শুটিং ক্লাব এর পাশে ইন্ডিয়ান হাই কমিশন এ যেয়ে অন্যান্য কাগজ পত্র সহ জমা দিয়ে আসতে হবে. ভিসা ফি ৬০০ টাকা।  তবে অবশ্যই শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা টু শিলিগুড়ি রিটার্ন টিকেট এর অরিজিনাল এবং ফটোকপি জমা দিতে হবে. না হলে ভিসা রিজেক্ট করে দিবে। টিকেট মূল্য ৩০০০ টাকা। টিকেট কিনতে হবে কল্যাণপুরের শ্যামলী কাউন্টার থেকে।

আপনার যাত্রার যে তারিখ টি ফর্ম এ উল্লেখ করেছেন, তার ঠিক ১/২ দিন আগে আপনি ভিসা পাবেন, যত আগেই আপনি এপ্লিকেশন জমা দিয়ে থাকেন না কেন. সুতরাং ভিসা নিতে যাওয়ার প্ল্যান সেভাবেই করুন।  ভিসা ও পাসপোর্ট রিটার্ন করার সময় বিকাল ৩:৩০ থেকে ৪:৩০ (এই সময়ের মধ্যে এম্বাসি তে ঢুকতে হবে). ট্রানজিট ভিসায় আপনি যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ ৩ দিন, এবং আসার সময় সর্বোচ্চ ৩ দিন ইন্ডিয়ার অংশে অবস্থান করতে পারবেন।  

আকাশপথে গেলে কোনো ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা লাগবে না.

ভুটান এ বাংলাদেশিদের জন্য পোর্ট এন্ট্রি ভিসা।  তার জন্য আপনার পাসপোর্ট এর ফটোকপি (৩ সেট), ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ফটো অবশ্যই সাথে নিতে ভুলবেন না।  

.

ট্রান্সপোর্ট (ঢাকা-বুড়িমারী):
আপনি আপনার ক্রয়কৃত শ্যামলী পরিবহনের টিকিটে যাত্রা করতে পারেন। কিন্তু যেহেতু আপনার শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন নেই ভুটান যাওয়ার জন্য, বুড়িমারী থেকে আপনাকে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে, সুতরাং বুড়িমারী থেকে পরের অংশটুকু আপনার নষ্ট হবে. আপনি আপনার নির্ধারিত যাত্রার ৩৬ ঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত শ্যামলীর টিকেট টি ফেরত দিতে পারবেন, ওরা ৩০০ টাকা কেটে আপনাকে ২৭০০ টাকা ফেরত দিবে।  

হানিফ, এস আর, শাহ আলী, রোজিনা, লালমনি, নাবিল এবং মানিক এক্সপ্রেস বুড়িমারী পর্যন্ত যাতায়াত করে. এদের মধ্যে এস আর, শাহ আলী এবং মানিক  এক্সপ্রেস এর এ.সি. সার্ভিস আছে, অন্যগুলো শুধু নন-এ.সি. আমার দেখা মতে মানিক এক্সপ্রেস এই মুহূর্তে সব চেয়ে ভালো সার্ভিসে দেয়. ওদের মহাখালী টার্মিনাল এও কাউন্টার আছে, কিন্তু এখান থেকে ছাড়া বাস টি নন-এসি. এসি বাস পেতে হলে কল্যাণপুর যেতে হবে।  

ভাড়া এসি ৮০০ টাকা, নন-এসি ৬৫০ টাকা। বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে রাত ৮:৩০-৯:৩০ এর মধ্যে, বুড়িমারী পৌঁছে যাবেন সকাল ৮ টার দিকে। বাস থেকে নেমেই ডানে-বামে না তাকিয়ে বুড়ির হোটেল থেকে চটপট নাস্তাটা সেরে নিন, হতে পারে আগামী ৬-৭ ঘন্টার জন্য এটাই আপনার শেষ "জেনুইন" খাওয়া। (আমি এই ভুল করে পেটের মধ্যে ফায়ারপ্লেস নিয়ে মোটামোটি সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম)

.

ইমিগ্রেশন (বুড়িমারী-চেংড়াবান্ধা):
বুড়িমারি বর্ডারে আপনি নিজে সব কিছু করতে পারেন, আবার এজেন্ট এর সহযোগিতাও নিতে পারেন। বাংলাদেশ প্রান্তে বর্ডার এ কাজ শুরু হয় সকাল ৯ টায়।  এখন ট্রাভেল ট্যাক্স ৬০০ টাকা, এজেন্ট চার্জ বাংলাদেশ প্রান্তে ১৫০ টাকা, ইন্ডিয়া প্রান্তে ১০০ টাকা প্রতি বার. কিন্তু আমার পর্যবেক্ষন হলো বাংলাদেশ প্রান্তে একটা সিন্ডিকেট আছে, যারা এই ট্রাভেল ট্যাক্স টা দেয় না. পুরোটাই নিজেরা ভাগাভাগি করে নেয়.

যদি আপনি নিজে সব কিছু করতে চান, তাহলেই প্রথমেই ইমিগ্রেশন বিল্ডিং এর (হলুদ বিল্ডিং) ইমিগ্রেশন কক্ষে যেয়ে একটি ডিপার্চার ফর্ম নিন, সেটি ফিলাপ করে ইমিগ্রেশন কক্ষের উল্টো দিকের কক্ষে চলে যান।  চেক করিয়ে আবার ইমিগ্রেশন কক্ষে চলে আসুন। ফটো তোলা এবং সিল দেয়া হয়ে গেলে বেরিয়ে আসুন। এর মধ্যে অনেকেই আপনার পাসপোর্ট নিতে চাইবে, অনেক কুলি আপনার ব্যাগ টানতে চাইবে, প্রয়োজন না হলে নিজেই নিজেকে হেল্প করুন। আমার কাছে এটা ক্যাচাল মনে হয়.

এর পরের গন্তব্য বাংলাদেশ কাস্টমস এর টিনের ঘর. টাকা না দিলে চেক করবে, দিলে করবে না।  এখানে আপনাকে আরেকটা সীল নিতে হবে কাস্টমস এর।  নিয়ে ঢুকে যান ইন্ডিয়ায়।  

এরপর ইন্ডিয়া কাস্টমস এর পালা।  আপনাকে জিগ্যেস করতে পারে কত টাকা নিয়ে যাচ্ছেন, পকেটে যাই থাকুক, কম করে বলুন। সীল নিয়ে চলে আসুন ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন অফিস এ. সামনে বসে থাকা এক অফিসার আপনার পাসপোর্ট চেক করবে, করার পর পাশের দরজা-জানালা বিহীন ঘরটিতে চলে যান, যেখানে এরাইভাল ফর্ম ফিলাপ করবে, আর ২৫ রুপি নিবে, ফর্ম ফিলাপ করে চলে যান ইমিগ্রেশন কক্ষে, যেখানে সব কিছু চেক করে ফটো তুলে আপনাকে এরাইভাল সীল দিবে।

ঝামেলা শেষ, আপনি এখন থেকে কয়েক দিনের জন্য নিজেকে মুক্ত বিহঙ্গ ভাবলে কেউ কিছু মনে করবে না।  

চলবে ..........

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz

ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য: দ্বিতীয় পর্ব




আমি গত ৭ই অক্টোবর থেকে গত ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সড়কপথে ভুটান এবং ইন্ডিয়া ট্রাভেল করি. আমার একটা অনুভূতি হলো ভুটান যাত্রার জন্য কম্প্রিহেনসিভ কোনো তথ্য আমি যাওয়ার আগে খুঁজে পাইনি। যে কারণে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে প্রত্যেকটি ধাপ আলোচনা করার জন্য মনস্থির করলাম যদি ভ্রমণপিয়াসী কারো উপকারে আসে। একবারে পুরোটা আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পার্ট বাই পার্ট করতে হচ্ছে। তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব। Happy Traveling Smile


দ্বিতীয় পর্ব:

চেংড়াবান্ধা থেকে জায়গাও/ফুন্টশোলিং:

বুড়িমারীর ওপারে ইন্ডিয়ার যে অংশটি, তার নাম চেংড়াবান্ধা। 'চেংড়া' মানে ছোট ছেলে। এই পুরো এলাকাটি নিয়ে আমার মাঝে মাঝে টেনশন হয়, 'চেংড়া' থেকে 'বুড়ি' এখানে কেউ কি নিরাপদ না? চেংড়া কে বেঁধে রাখা হয় আবার বুড়িকে মেরে ফেলা হয়? ভয়ের কিছু নেই, নামকরণের সার্থকতা এখানে খুব একটা প্রযোজ্য না.

আসল কথায় আসি. ইমিগ্রেশন তো শেষ, ধরে নেয়া যায় আপনার আনুমানিক ১০-১০:৩০ বেজে গেছে, এবার মুদ্রা বিনিময় এর পালা, আই মিন মানি এক্সচেঞ্জ। ওপারে অনেক গুলি কাউন্টার আছে, যেটাতে ভালো রেট পান, ইন্ডিয়ান রুপি করে নিন। ভুটানিজ নু করা দরকার নেই, ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি মহাসমারোহে চলে, শুধু খেয়াল রাখবেন যেন কোনো ১০০০ রুপির নোট না দিয়ে দেয়. ৫০০ পর্যন্ত ঠিক আছে.

এবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পালা, জায়গাও কিভাবে যাবেন। যদি গ্রূপ বড় হয় (৪ বা ততোধিক), তাহলে কার অথবা জীপ ভাড়া করে যাওয়া ভালো। সুজুকি সুইফট অথবা অল্টো গাড়ি গুলো ১৫০০ টাকার মতো পড়বে (৪ জন যেতে পারবেন), আর টাটা সুমো টাইপ এর জীপ পড়বে ২৫০০-৩০০০ টাকার মতো. ৭-৯ জন বসতে পারবেন। যারা এই দুটির যেকোনো একটি অপশন নিয়ে নিবেন, তাদের ঝামেলা শেষ, আড়াই ঘন্টা পর আপনাদের সাথে জয়গাঁওতে দেখা হবে. আমি এবার যারা কম খরচে বাসে করে যেতে চান, তাদের পথটি একটু দেখিয়ে দেই.

আপনি যদি বাস এ যেতে চান, তাহলে মানি এক্সচেঞ্জ গুলির পেছনে চলে যান, ওখানে ভ্যানগাড়ি পাবেন। বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ২০-৩০ রুপি নিবে। আগে নাস্তা করতে মনে না থাকলে এখানে হালকা একটু খেয়ে নিন. এরপর চেপে বসুন, অথবা ঝুলতে ঝুলতে রওনা দিন ময়নাগুড়ির মুড়ির টিন মার্কা বাসে। খেয়াল রাখবেন যেন ভুলে ধূপগুড়ির বাসে উঠে না যান. ময়নাগুড়ির বাসে আপনাকে নেমে যেতে হবে 'ময়নাগুড়ি বাইপাস' এ। দূরত্ব ১৪কিমি, ভাড়া ১৫ টাকা, সময় লাগবে প্রায় ৩০-৪০ মিনিট। বড় ব্যাগ থাকলে ছাদের উপর রেখে দিবে, টেনশন নেই, হারাবে না. কন্ডাক্টরকে বলে রাখুন যেন মনে করে আপনাকে বাইপাসে নামিয়ে দেয়.

আপনাকে যে চৌরাস্তায় নামাবে, সেখান দিয়ে শিলিগুড়ি থেকে ছেড়ে আসা বাস গুলো যায় হাসিমারা, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, গুয়াহাটির দিকে। আপনি হাসিমারা/জয়গাঁও এর যেকোন একটি বাসে উঠে যান. বীরপাড়ার বাসেও উঠতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে বীরপাড়া পৌঁছে আবার হাসিমারা/জয়গাঁও এর বাস ধরতে হবে. বাইপাস থেকে আনুমানিক ৩০ মিনিট পর পর হাসিমারা/জয়গাঁও এর বাস পাবেন। সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টা, ভাড়া ৫০ রুপি।

আরেকটি অপশন হলো নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ট্রেনে করে হাসিমারা যাওয়া। কিন্তু এইটা অতটা ভালো অপশন না, সময় নষ্ট হবে, আর নিয়তির উপর অনেকটা নির্ভর করতে হবে.

বাস আপনাকে ওল্ড হাসিমারা তে নামিয়ে দিবে। সেখান থেকে কালো রংয়ের পিয়াজিও অটো যায় জয়গাঁও পর্যন্ত, শেয়ারে ২০ টাকা, রিজার্ভ ১২০ টাকা। সময় লাগবে প্রায় ৩০ মিনিট। ভুটান বর্ডার গেট পর্যন্ত যাওয়ার আগেই একটা নেহেরুর স্ট্যাচু পাবেন, ওখানে নেমে পড়ুন, অথবা রিজার্ভ করা গাড়ি নিয়ে ডানদিকের রাস্তায় না যেয়ে সোজা চলে যান, ১৫০ গজ সামনে হাতের বাম পাশে 'ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন অফিস' পাবেন, হলুদ রংয়ের দেয়াল দেয়া।

আপনার পরবর্তী কাজটি এখানেই।

.

জয়গাঁও/ফুন্টশোলিং ইমিগ্রেশন:

আগেই বলেছি, ভুলেও প্রথমেই ভুটান বর্ডার এ চলে যাবেন না, প্রথমে ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন অফিসে যেয়ে এক্সিট ফর্ম ফিলাপ করে ছবি তুলে পাসপোর্ট এ এক্সিট সীল নিতে হবে. এই অংশটায় অনেকেই ভুল করে, ইন্ডিয়ার এক্সিট সীল না নিয়ে ভুটান গেট এ চলে যায়, ওখান থেকে আবার এই অফিস এ ফেরত পাঠায়। ইন্ডিয়া ইমিগ্রেশন অফিস প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সিল নিয়ে প্রায় ১কিমি দূরে ভুটান গেট দিয়ে ফুন্টশোলিং (ভুটান সাইড) ঢুকে পড়ুন।

এইবার ভুটান এর এন্ট্রি সীল নেয়ার পালা। গেট দিয়ে ঢুকেই হাতের ডানপাশে 'ইমিগ্রেশন' অফিস লেখা একটা লাল রংয়ের দোতালা বিল্ডিং পাবেন, ঐটার পেছনের গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ুন, এখন আপনার পাসপোর্ট এর ফটোকপি আর ছবি লাগবে। ফর্মালিটি শেষ করে আপনার ছবি তুলে এন্ট্রি সীল দিয়ে দিবে। অফিস টাইম সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা. এই অফিস টি শুধু বাংলাদেশী এবং অন্য বিদেশিদের জন্য প্রযোজ্য। ইন্ডিয়ানদের জন্য আরেকটু সামনে একটা অফিস আছে, সাদা বিল্ডিং। ভুলেও ওখানে যাবেন না.

ভুটান ইমিগ্রেশন আপনাকে শুধুমাত্র ৭ দিনের জন্য থিম্ফু আর পারোর জন্য পার্মিট দিবে, অন্য কোথাও যেতে চাইলে (যেমন হা ভ্যালি, পুনাখা, ওয়াংদি, ফোবজিখা, বুমথাং, ইত্যাদি) আপনাকে থিম্ফু থেকে পার্মিট নিতে হবে. ৭ দিনের বেশি থাকতে চাইলেও থিম্ফু থেকে পার্মিট বাড়িয়ে নিতে হবে. এই ব্যাপারটি মনে রাখা খুব জরুরি।

হলো তো? ঢুকে গেলেন আপনি ভুটান, দ্যা ল্যান্ড অফ থান্ডার ড্রাগন, দ্যা লাস্ট সাংগ্রিলা। আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশগুলির একটি।

চলবে। ........

Photo: Bhutan Gate at Phuentsholling border

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz

ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য: তৃতীয় পর্ব



আমি গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সড়কপথে ভুটান এবং ইন্ডিয়া ট্রাভেল করি. আমার একটা অনুভূতি হলো ভুটান যাত্রার জন্য কম্প্রিহেনসিভ কোনো তথ্য আমি যাওয়ার আগে খুঁজে পাইনি। যে কারণে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে প্রত্যেকটি ধাপ আলোচনা করার জন্য মনস্থির করলাম যদি ভ্রমণপিয়াসী কারো উপকারে আসে। একবারে পুরোটা আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পার্ট বাই পার্ট করতে হচ্ছে। তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব। Happy Traveling Smile
.

তৃতীয় পর্ব:

ভুটান কে বলা হয় দ্যা লাস্ট সাংগ্রিলা। আপনি যে মুহূর্তে ফুন্টশোলিং এর ভুটান গেট দিয়ে ভুটানের ভিতরে ঢুকবেন, গেট এর দুই পাশের পার্থক্যটা দিন-রাতের মতো বুঝতে পারবেন। সব কিছুর মধ্যে একটা ধীরস্থির ভাব, ভুটানিজ মানুষগুলোর হাসিখুশি চেহারা, অতিশয় ভদ্র ব্যবহার, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, ডিসিপ্লিন, সময়ানুবর্তিতা আপনাকে ছোটোখাটো একটা ধাক্কা দিবে। আপনার মনে হবে ঘড়ির কাটা আসলে এন্টিক্লকওয়াইজ ঘুরে গেছে কিছুটা। আপনার শুরু থেকে এই পর্যন্ত যে ধকলটা গিয়েছে সেটা কিছুটা কাটতে শুরু করবে আস্তে আস্তে।

মূল কথায় আসি, এটা নস্টালজিক হবার টাইম না.

ফুন্টশোলিং একটা বাণিজ্যিক শহর. দেখার তেমন কিছু নেই. তাই আপনাকে পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে চিন্তা শুরু করতে হবে. আগেই বলেছি যে ফুন্টশোলিং এ নেয়া ভিসা দিয়ে আপনি শুধুমাত্র থিম্ফু এবং পারো দেখতে পারবেন। সুতরাং আপনাকে ফুন্টশোলিং থেকে এই দুই জায়গার যেকোনো একটিকে গন্ত্যব্য ঠিক করে এগিয়ে যেতে হবে. আপনি প্রথম দিন ফুন্টশোলিং এ থেকে পরদিন সকালে থিমফু বা পারোর দিকে রওনা হতে পারেন যদি হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে। এতে ৫/৬ ঘন্টা জার্নিতে ভুটানের অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। সময় না থাকলে ভিসা নিয়েই রওনা দিতে পারেন পারো/থিমফু।

.
ফুন্টশোলিং-পারো/থিমফু/চুখা:

ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দ পাবলিক বাস যেগুলি ফুন্টশোলিং থেকে পারো/থিমফু যায়. কারণ দুটি, প্রথম-এতো লম্বা একটা জার্নি আপনি আরাম করে বসে যেতে পারবেন, গাদাগাদি করে বসতে হবে না, দ্বিতীয়-বাসের জানালা দিয়ে আপনি আরাম করে বসে দুপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, তৃতীয়-ট্যাক্সির চেয়ে বাস তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ কারণ পাহাড়ী সরু রাস্তায় ট্যাক্সিগুলো অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, চতুর্থ-বাস ট্যাক্সির চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। তবে বাসের প্রধান সমস্যা হলো ট্যাক্সির মতো সবসময় পাওয়া যায়না, নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রা করতে হয়.

ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে ভিসা এবং এন্ট্রি সীল নেয়ার পর একটু উদোর পূর্তি করে নিন. ভুটান গেট বরাবর যে রাস্তাটা আছে, তার বা দিকে মেইন রোড এর উপর এবং খানিকটা ভিতরের দিকে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট আছে. ব্যক্তিগত ভাবে আমার ফেভারিট হলো "জেন ফ্যামিলি ক্যাফে", সুন্দর পরিবেশ, মজাদার খাবার আর আতিথেয়তা, আপনারও ভালো লাগবে আশা করি, তবে দাম যে সবচেয়ে কম তা বলা যাবে না, আবার খুব বেশি ও না.

খেয়ে নিলেন, এবার সিদ্ধান্ত নিন যে আজই রওনা দিবেন নাকি পরের দিন. যদি পরের দিন রওনা দিতে চান তাহলে ইন্ডিয়ান এবং ভুটানিজ সাইড মিলে বেশ কিছু হোটেল আছে, বিভিন্ন প্রাইস রেঞ্জের। ইন্ডিয়ান সাইড তা একটু নোংরা, ভুটানিজ সাইডটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আপনার বাজেট মতো আপনি একটা হোটেল ঠিক করে নিন. একেবারে পিক টাইম না হলে হোটেলে রুম পেতে সমস্যা হবার কথা না. বাসের টিকেট কেটে রাখুন। ২০ সিটের বাস, এবং জেনুইনলী সিটিং সার্ভিস। পারলে ডানপাশের জানালার সিট নিন, সবচেয়ে ভালো হবে ১ অথবা ২ নম্বর সিট্ পেলে।

আর যদি আজই চলে যেতে চান তাহলে ভুটান গেট থেকে উল্টো দিকে (ভুটানের ভেতরের দিকে) চলে যান, সামনে যেয়ে একটা তিন রাস্তার মোড় পাবেন। সেখান থেকে বামে চলে যান, যেতে যেতে একটা ছোট ব্রিজ পাবেন। ব্রিজ এর আগেই ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পাবেন হাতের বামে, আর ব্রিজ পার হয়ে হাতের দেন পাশে একটা বড়ো গ্রাউন্ড দেখতে পাবেন, ওটাই বাস টার্মিনাল। টিকেট কাউন্টার গুলো টার্মিনালএর ভেতরে। ট্যাক্সি ভাড়া পারো/থিম্ফু ৬৫০ টাকা। বাস ভাড়া ২৯০ টাকা। সময় লাগবে ৬ ঘন্টা। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত থিমফুর বাস পাবেন। পারোর বাস সকাল ৮:৩০ এবং ৯টায়। তবে অন্য সময় বাসে পারো যেতে চাইলে বিকল্প পদ্ধতি হলো থিমফুর বাসে চেপে বসুন, তারপর পারো থেকে ১৮কিমি (থিম্ফু থেকে ৩৭কিমি) আগে চূজোম নামে একটা ইন্টারসেকশন পরবে, যেখান থেকে বামে পারো, আর ডানে থিম্ফু। সেখানে নেমে যান. এখন থেকে ট্যাক্সি ১০০ টাকা নিবে জনপ্রতি পারো পর্যন্ত। তবে চুজম পৌঁছাতে রাত হয়ে গেলে এই পদ্ধতি অবলম্বন না করাই ভালো। ট্যাক্সি পেতে সমস্যা হবে.

সবচেয়ে ভালো সার্ভিস দেয় meto ট্রান্সপোর্ট। তবে অন্য গুলিও খুব একটা খারাপ না.

ফুন্টশোলিং থেকে আপনার গাড়ি ছাড়ার পর আপনি সাই সাই করে উপরে উঠতে থাকবেন। নিচে চলে যেতে থাকবে ফুন্টশোলিং শহর. যে শহরটাকে আপনি এতক্ষন অনেক ছোট মনে করছিলেন তার আসল সাইজটা এখন বুঝতে পারবেন। আনুমানিক ৫ কিমি পর রিনচেনডিং নাম একটা জায়গায় গাড়ি থামিয়ে আপনার পাসপোর্ট/ভিসা/এন্ট্রি চেক করা হবে, এবং কম্পিউটারে এন্ট্রি করা হবে. এরপর শুধুই প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিমোহিত হবার পালা। নীলরঙা পাহাড় আর তার গায়ে মেঘের হুটোপুটি, অসংখ্য ছোটোবড়ো ঝর্ণা, picture-perfect মনাস্ট্রি অথবা জং, একদিকে তাকালে অন্য দিক মিস হয়ে যাবে। কখনো হটাৎ বৃষ্টি অথবা কখনো নীল আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের ভেলা আর নিচে অপার্থিব সুন্দর পাহাড়, একই ডিজাইনের ভুটানিজ বাড়িঘর, সব মিলে মনে হবে আপনি চলে গিয়েছেন ২০০-৩০০ বছর পেছনে। ঘন্টা তিনেক পর আপনি চুখা নামে একটা শহরে পৌঁছাবেন। এটার বৈশিষ্ট্য হলো এখানে আপনি ৩টা বিশাল ঝর্ণা পাবেন, যাকে বলা যায় absolutely stunning. দুটো পরবে পাহাড়ের ওপাশে, আরেকটা পরবে আপনার রাস্তার পাশে। যদিও বাস থামাবে না, তবু যতটুকু সম্ভব প্রাণ ভোরে দেখে নিন.

চুখায় আপনার গাড়ি থামবে কোনো একটা রেস্টুরেন্ট এ. পাহাড়ের হিমশীতল ঠান্ডায় অন্য কিছুর সাথে এক কাপ চা খেয়ে নিতে খারাপ লাগবে না.

পথে পড়বে চুখা ড্যাম, যেটা আসলে একটা পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প। ব্রিজ এর উপর থেকে দেখতে পাবেন সগর্জনে নেমে আসা পাহাড়ি নদী চলে যাচ্ছে ব্রিজের নিচ দিয়ে অজানা কোনো গন্তব্যে। যাওয়ার পথে জ্বালিয়ে দিয়ে যাচ্ছে হাজারো ঘরের আলো. ক্লান্তিহীন এই ছুটে চলা হাজার বছর ধরে. আপনিও ক্লান্তিটাকে আপাতত একটু সরিয়ে রাখুন, চোখ রাখুন পাহাড়-নদী-ঝর্ণা-মেঘ-আকাশের বহুরূপী এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের উপর.

যদি একটু এডভেন্চারপ্রিয় হন, এক দিন চুখা তে থেকে যেতে পারেন। সময় নিয়ে দেখে নিতে পারেন ঝর্ণা গুলো আর পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প। খারাপ লাগার কথা না. ঝর্ণার ভিউপয়েন্টে রেস্টুরেন্ট আছে, অবলীলায় কাটিয়ে দেয়া যায় এক বেলা ওখানে। নেক্সট টাইম আমার এটা করার ইচ্ছা আছে, ইনশাল্লাহ।

চলবে।.....

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz

ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য: চতুর্থ পর্ব






আমি গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সড়কপথে ভুটান এবং ইন্ডিয়া ট্রাভেল করি. আমার একটা অনুভূতি হলো ভুটান যাত্রার জন্য কম্প্রিহেনসিভ কোনো তথ্য আমি যাওয়ার আগে খুঁজে পাইনি। যে কারণে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে প্রত্যেকটি ধাপ আলোচনা করার জন্য মনস্থির করলাম যদি ভ্রমণপিয়াসী কারো উপকারে আসে। একবারে পুরোটা আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পার্ট বাই পার্ট করতে হচ্ছে। তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব। Happy Traveling Smile


ভুটান ভ্রমণের একটা অনবদ্য অভিজ্ঞতা হলো ভুটানিজ মানুষগুলোর হাসিখুশি লাইফস্টাইল। ধরুন আপনি বাসে করে পাহাড়ি রাস্তায় চলেছেন, আপনার সামনে একটা সিট্ ফাঁকা আছে. অনেক্ষন পর দেখলেন রাস্তার কোন একটা পয়েন্টে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে. বাস দেখে সে হাত নাড়ালো, ড্রাইভার বাস থামিয়ে খুলে দিলো দরজা, উঠে বসলো সুদর্শনা মেয়েটি আপনার সামনের সিটে। কিছুক্ষন পর মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে অন্য একটা মেয়েকে কিছু বললো, প্রত্যুত্তরে ওই মেয়েটাও কিছু একটা বললো। শুরু হলো একটু একটু করে খুনসুটি। আস্তে আস্তে আরো একটা দুইটা ছেলে মেয়ে যোগ হলো এই খুনসুটিতে। আপনি হয়তো কিছুই বুঝবেন না, কিন্তু আনন্দের তো আর ভাষা লাগে না তাই না? আর এজন্যই হয়তো ভুটানিজদের বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী জাতি। ভুটান সরকার অন্য সব সরকারের মতো জিডিপির পেছনে দৌড়ায় না. ওদের উদ্দেশ্য হলো GNH (Gross National Happiness) ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া।

আমি ভাবি, কত বুদ্ধিমান জাতি এরা. আর এই ভাবনার মধ্যেই পাহাড়ের নীরব রাস্তায় ঠান্ডার চাদরে ঢাকা বাসটি ছুঁটে চলে কলকাকলি আর হট্টগোল বুকে নিয়ে।

দুঃখিত, আবার প্রসঙ্গ থেকে দূরে সরে গেলাম।

বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, চুখা শহরের আগেই গেদু নামে আরেকটা শহর পরবে। নামের মধ্যে একটা আদুরে ভাব আছে. যাই হোক, গেদু শহরটাকে উল্টোপাশের পাহাড় থেকে অপূর্ব সুন্দর লাগে দেখতে। খাঁড়া পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে থাকা অদ্ভুত সুন্দর দালানগুলো, মাঝে মাঝেই সাদা মেঘের ঝাঁক টুপ্ করে শহরটাকে ঢেকে দিচ্ছে। আবার চাদরের এক কোনা থেকে মুচকি হেঁসে উঁকি দিচ্ছে শহরের কোন একটা প্রান্ত। তবে এই শহরে কিছু দোকানপাট ছাড়া থামার আর কোনো উপলক্ষ নেই. এর সৌন্দর্য দূর থেকেই অনেক ভালো।

গেদু, চুখা পার হয়ে ঘন্টা চারেক পর আপনি পৌঁছাবেন চাপচা ভ্যালি তে. এখানে ব্রিজ পার হওয়ার আগে আপনার পাসপোর্ট-ভিসা দ্বিতীয়বার চেক করা হবে. একটা কথা বলে রাখি, চেকের সময় গ্রুপের সবার যাওয়া দরকার নেই. একজন সবগুলি পাসপোর্ট নিয়ে গেলেই হবে.

চেক পয়েন্ট ছাড়ার পর ব্রিজটা অতিক্রম করলেই আচমকা রাস্তাটা সরু আর খাড়া হয়ে যাবে। অগণিত শার্প টার্ন, আর পাহাড়ের থেকে বের হয়ে থাকা পাথরের বোল্ডার। আর অনেক নিচে দিয়ে খাদের গা ঘেঁষে বয়ে চলা গাঢ় সবুজের মধ্যে হালকা সবুজ পাহাড়ি নদী। আপনার বুঝতে একটু বেগ পেতে হবে আপনার বেড়ে যাওয়া হৃদকম্পন কি রাস্তার আপাতঃ ঝুঁকির জন্য নাকি এই মন মাতানো অস্পৃশ্য সৌন্দর্য্যের জন্য।

এভাবেই চলবে প্রায় ঘন্টাখানেক।

এরপর আপনি পৌঁছাবেন চুজম নাম একটা মোড়ে। চুজম হলো থিম্ফু ছু আর পারো ছু এর মিলনস্থল। ছু মানে নদী. চুজম থেকে বা দিকে গেলে আপনি চলে যাবেন পারো (১৮কিমি), হা ভ্যালি (৭২কিমি)। আর ডানে গেলে রাজধানী থিম্ফু (৩৭কিমি) আর দেশের অন্যান্য অংশগুলি। আমি ধরে নিচ্ছি আপনি থিমফুর দিকেই যাচ্ছেন।

এখানে রাস্তা বেশ চওড়া আর মোটামোটি সমতল। এতক্ষন করে আসা এক্সাইটিং জার্নির পর একটু বোরিং লাগতে পারে। সময় এখন আপনার মিউজিক প্লেয়ারের ভলিউম টা বাড়িয়ে দেয়া, আর বামে বয়ে চলা থিম্ফু ছু আর তার ওপাশের পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করা.

মিনিট চল্লিশেক পর আপনি পৌঁছে যাবেন থিম্ফু শহরের ইন্টারসিটি বাসস্ট্যান্ড এ.

চলবে।......

Photo: Thimphu Intercity Bus Terminal

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz

ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য: পঞ্চম পর্ব









আমি গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সড়কপথে ভুটান এবং ইন্ডিয়া ট্রাভেল করি. আমার একটা অনুভূতি হলো ভুটান যাত্রার জন্য কম্প্রিহেনসিভ কোনো তথ্য আমি যাওয়ার আগে খুঁজে পাইনি। যে কারণে যতটুকু সম্ভব বিস্তারিত ভাবে প্রত্যেকটি ধাপ আলোচনা করার জন্য মনস্থির করলাম যদি ভ্রমণপিয়াসী কারো উপকারে আসে। একবারে পুরোটা আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পার্ট বাই পার্ট করতে হচ্ছে। তারপরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন নিঃসঙ্কোচে। চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব। Happy Traveling Smile

থিমফু:

ফুন্টশোলিং থেকে ৬ ঘন্টার বাস অথবা ট্যাক্সিতে এক মনোমুগ্ধকর জার্নি শেষে, দুইবার পাসপোর্ট-ভিসা চেক করার পর আপনি পৌঁছে যাবেন রাজধানী থিমফুতে। তবে ছোট্ট একটি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। সাধারণত রাজধানীগুলো যে রকম হয়, হৈ-চৈ, হট্টগোল, আকাশ থেকে মাটি পর্যন্ত দালানকোঠা, কেউ কাউকে না চেনা-থিমফু সেরকম না. মূল শহরটা দৈর্ঘ্যে আনুমানিক ১০কিমি, এবং প্রস্থে খুব বেশি হলে ১ কিমি হবে হয়তো। যেদিকেই তাকাবেন, পাহাড় আর মেঘের ক্লান্তিহীন খেলা চলছে তো চলছেই। কখনো লম্বাটে টিফিন বক্সের মতো শহরটাকে ঢাকনার মতো ঢেকে দিচ্ছে ঘন মেঘের চাদর, আবার কখনো চাদর সরিয়ে সূর্যমামা দ্যুতিময় করে তুলছে অনেক যত্ন করে কারুকাজ করা থিমফুর প্রত্যেকটি স্থাপনাকে। আর শহরে ঢোকার মুখেই আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় ধ্যানমগ্ন গৌতম বুদ্ধের অবিশ্বাস্য রকমের অতিকায় মূর্তি, সকালে যার সোনালী সৌম্য মুখমণ্ডলে আর বিকেলে সমতল পিঠে সূর্যের বর্ণচ্ছটায় অতিপ্রাকৃতিক হয়ে ওঠে.

থিম্ফু ভুটানের রাজধানী হিসেবে আবির্ভুত হয় ১৯৫৫ সালে, রাজা জিগমে দোরজি ওয়াংচুকের হাত ধরে.

ছোট্ট একটা পরামর্শ, ব্যাগে একটা ছাতা রেখে দিলে অনেক ক্ষেত্রে ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। থিমপফু তে যেকোনো সময় টুপ্ করে বৃষ্টি নেমে যায়, কোনোরকম বলাবলি ছাড়াই। আর যদি ফটোগ্রাফির শখ থাকে, DSLR এবং লেন্সগুলো সঙ্গে থাকে, তাহলেই অবশ্যই একটা ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ অথবা নিদেন পক্ষে একটা ভালো মানের প্লাষ্টিক ব্যাগ রাখতে ভুলবেন না.

বাসে করে যদি থিমপফু যান, আপনাকে ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এই নামিয়ে দিবে। ওখান থেকে আপনাকে লোকাল ট্যাক্সি নিতে হবে হোটেল যাওয়ার জন্য। দূরত্বভেদে ভাড়া পর্বে ৬০-১২০ নু. আপনার যদি হোটেল ঠিক করা না থাকে, আর যদি হালকা ব্যাকপ্যাক থাকে, তাহলে ট্যাক্সি নেয়ার ও দরকার নেই. বাস টার্মিনাল থেকে বের হয়ে নদীর উপরের ব্রিজ টা ক্রস করে ওপারে চলে যান, একটা পেট্রোল পাম্প পাবেন, পাম্পটাকে ডানপাশে রেখে হালকা একটু ডানে মোড় নিলেই যে রাস্তাটা পাবেন সেটা হলো নরজিন লাম ১ (Norzin Lam 1). এটাই থিমফুর প্রানশিরা। ব্রিজের গোড়া থেকে শুরু হয়ে অন্য প্রান্তটা চুবাচু মোড় পর্যন্ত চলে গিয়েছে। শহরের অধিকাংশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মার্কেট, দোকানপাট এই রাস্তাটাকে ঘিরেই। সুতরাং আপনার অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সব চাহিদা আপনি এখান থেকেই মোটামোটি মিটিয়ে নিতে পারবেন।

.
কি কি দেখবেন:

বুদ্ধ ডরডেনমা স্ট্যাচু (Budhha Dordenma Statue):
আগেই বলেছি অতিকায় আকৃতির এই স্ট্যাচুর কথা. ৪৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০১৫ সালে মূল অংশ শেষ হওয়া, এবং শহরের দক্ষিণপ্রান্তে পাহাড় চূড়ায় নির্মিত এই স্ট্যাচু।বসে থাকা অবস্থায় এর উচ্চতা ৫১.৫ মিটার (১৫৫ ফুট). বানানো হয়েছে ব্রোঞ্জ দিয়ে, আর প্রলেপ দেয়া হচ্ছে গোল্ডের। কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হলেও গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন হয়ে বসে থাকা স্ট্যাচুগুলোর মধ্যে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড়. চারদিকে ঘিরে আছে ঘন সবুজ কুয়েনসেল ফদ্রাং নেচার পার্ক। বামে অনেক নিচে পুরো থিমফু শহরের বার্ডস আই ভিউ, ডানে দেখতে পাবেন শহরের বাকি অংশ এবং ক্যান্টনমেন্ট। স্ট্যাচুর চারদিকে অসম্ভব সুন্দর আরো অনেকগুলি নারীমূর্তি আছে, সব গুলোই গোল্ডের প্রলেপ দেয়া। সবুজ পাহাড়ের পটভূমি তে যখন সূর্যের আলো সোনালী মূর্তিগুলোর গায়ে পরে, সে দৃশ্য কল্পনাকেও হার মানিয়ে দেয়। মূল স্ট্যাচু কে ঘিরে আরো ১০,০০০ ছোট বড় বুদ্ধ মূর্তি বানানোর কথা. ব্যাপারটা তখন কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে সেটা পাঠকের কল্পনাশক্তির উপর ছেড়ে দেয়া হলো. কোনো ভাবেই এটি দর্শন মিস করবেন না.

এন্ট্রি ফি: ফ্রি (এখন পর্যন্ত)

কিভাবে যাবেন: ট্যাক্সি ছাড়া উপায় নেই, হাতে অ-নে-ক সময় আর ফিটনেস ভালো থাকলে হেটে উঠতে পারেন। ট্যাক্সি নিতে হবে আপ ডাউন। ভাড়া পরবে ৪০০-৫০০ নু। তবে ওখানে যেয়ে সব মিলে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘন্টা থাকতে হবে পুরো ব্যাপারটিকে উপভোগ করার জন্য। ট্যাক্সি ঠিক করার সময় সেটা ফিক্স করে নিন. আর ড্রাইভারের ফোন নম্বর টাও নিয়ে রাখুন, কোনো কারণে খুঁজে পেতে কষ্ট হলে কাজে দেবে। এতদূর যেয়ে আর যাই হোক, আপনার ড্রাইভার কে হারিয়ে ফেলা কোন ভাবেই চলবে না.

.
ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোর্তেন:

বুদ্ধ স্ট্যাচুর দিকে যাওয়ার পথে শহর ছেড়ে ঢাল বেয়ে উঠতেই হাতের ডান পাশে পড়বে ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চোর্তেন। চোর্তেন মানে হলো "বুদ্ধের আসন". এটা আসলে একটা মন্দিরের মতো, কিন্তু স্থাপত্যশৈলীতে অনন্য সুন্দর। প্রবীণ ভুটানিজরা এখানে সকাল সন্ধ্যা প্রার্থনা করতে আসেন। বুদ্ধ স্ট্যাচুর দিকে যাওয়ার বা আসার পথে ১৫-২০ থেমে ছবি তুলে নিন. ট্যাক্সি ড্রাইভারকে আগেই বলে নিন. সাধারণত এটার জন্য এক্সট্রা টাকা ওরা রাখে না.

এন্ট্রি ফি: ফ্রি

থিমফু জং (Thimphu Dzong or Tashichho Dzong):
জং হলো একটা শহরের মূল প্রশাসনিক ভবন. যদিও trongsa জং ভুটানের সবচেয়ে বড় জং, থিম্ফু জং খুব বেশি পিছিয়ে থাকার কথা না. ছবির মতো সুন্দর রয়েল থিম্ফু গলফ ক্লাবের পেছনে আরো বেশি ছবির মতো দাঁড়িয়ে আছে এই জং. পেছনের সবুজ পাহাড় এটার সোনালী চূড়াগুলোকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। মূল জং টি বানানো হয়েছিল ১৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে, কোনো রকম প্ল্যান ছাড়া, এবং এক টুকরো লোহাও ব্যবহার না করে.

প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি থিমফুর সবচেয়ে বড় উৎসব "থিম্ফু সেচু" (Thimphu Tsechu) এখানে অনুষ্ঠিত হয় অক্টোবর মাসে। এটিকে ভুটানের সবচেয়ে বড় উৎসবও বলা যায়. তিন দিন ব্যাপী এই উৎসবে ভুটানিজদের পাশাপাশি সারা পৃথিবী থেকে লোকজন আসে এর অংশ হতে. রং বেরং এর পোশাক পড়া ভুটানিজ ছেলে-মেয়ে, শিশু, বয়স্ক সবাই উপচে পরে এই জং এ. পালাক্রমে চলে নানা রকম ভুটানিজ নাচ গান. ভুটানের সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা মোটামোটি ভালো ধারণা পেতে এই উৎসবের কোনো তুলনা হয় না.

এন্ট্রি ফী: ৩০০ নু, বিকাল ৫:৩০ এর পর ঢোকা যাবে মূল ভবনের ভেতরে।

কিভাবে যাবেন: নরজিন লাম ১ এর চুবাচু প্রান্তে, তাজ তাশি হোটেল অতিক্রম করে আরেকটু সামনে গেলে গল্ফ কোর্সএর গেট পাবেন। ঢুকে পড়ুন। সোজা হাটতে থাকুন দৃষ্টিনন্দন রাস্তাটা ধরে. শেষ প্রান্তে এসে দেখতে না চাইলেও থিম্ফু জং আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আর যদি কুঁড়ে হন তাহলে আর কি করবেন, ট্যাক্সি নিয়ে নিন. শহরের মূল প্রান্ত হতে ১০০-১৫০ নু নিবে।

.
ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম:
যে দেশটি অনেক যত্নে আর পরিশ্রমে নিজেদের কে তথাকথিত আধুনিকতার করাল থাবা থেকে সযত্নে দূরে সরিয়ে রেখেছে, তাদের কৃষ্টি সম্পর্কে না জানা মানে হলো প্যারিস যেয়ে আইফেল টাওয়ার অথবা আগ্রা যেয়ে তাজমহল না দেখে চলে আসার মতো. দুইশ তিনশো বছর আগের ভুটানিজ দের পানির স্রোত ব্যবহার করে ঘানি ভাঙার যন্ত্র, প্রেয়ার হুইল, দুর্গ, আর অনুপম স্থাপত্যশৈলী। সহজ সরল ভুটানিজ জীবন যাত্রার একটা অনবদ্য বর্ণনা আপনি পেয়ে যাবেন এই মিউজিয়াম ভ্রমণে। মাঝে মাঝে এখানে ভুটানিজ বিয়েও আয়োজন করা হয়, জেনে নিন এমন কোনো অনুষ্ঠান আছে কিনা।

এন্ট্রি ফি: সার্কভুক্ত দেশের জন্য, ৩০ নু. সকাল ৯:১৫ থেকে বিকাল ৪ টা.

কিভাবে যাবেন: গল্ফ কোর্সের গেটটা ৩ রাস্তার মোড়, জং এর রাস্তাটা ডানদিকে, মিউজিয়ামের রাস্তা বাম দিকে। একটু সামনে যেয়ে বামে গেলে মিউজিয়াম পেয়ে যাবেন। জং আর মিউজিয়াম এক সাথে প্ল্যান করুন, সুবিধা হবে.

.
তাজ তাশি হোটেল এবং হ্যান্ডিক্রাফট মিউজিয়াম:
তাজ তাশি হোটেল ভুটানিজ স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। এটার সেন্ট্রাল লোকেশন আপনার ক্যামেরাকে ব্যস্ত রাখার জন্য একটা সুন্দর অজুহাত হতে পারে। তবে নরজিন লাম এর দিক থেকে ভালো ভিউ পাওয়া যাবে না, একটু কষ্ট করে ঢাল বেয়ে নেমে yarden lam এ চলে যান, ম্যাগনিফিসেন্ট একটা ভিউ পাবেন।
তাজ তাশি হোটেল এর বিল্ডিং এ আছে হ্যান্ডিক্রাফট মিউজিয়াম। দেখে নিতে পারেন সময় থাকলে। আর হোটেলের সামনে আছে হ্যান্ডিক্রাফট মার্কেট। ভালো লাগবে ঘুরে ঘুরে দেখতে আর শপিং করতে।

কিভাবে যাবেন: হেটে, যদি অনেক দূরের কোনো হোটেলে না থাকেন।

.
থিমফু ছু (থিমফু নদী):
অসম্ভব মায়াবী এই নদীর পাড় দিয়ে একটু হেটে না বেড়ালে অনেকাংশেই অপূর্ণ রয়ে যাবে আপনার থিম্ফু ভ্রমণ। অজানা কোনো উৎস হতে অজানা কোনো গন্তব্যে উচ্ছল ছুটে চলা এই নদী আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে যাবে আপনার হৃদয়। কখনো মসৃন, কখনো বাদামি রঙের পাথরে হটাৎ ছলকে ওঠা, কখনো গভীর, কখনো টলটলে স্বচ্ছ, কখনো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা অন্য কোনো জলধারার সাথে আলতোভাবে মিলে যাওয়া। চোগিয়াল লাম ধরে একটা হাঁটা দিন, নদীর পাশাপাশি দেখতে পাবেন উইকএন্ড ফার্মার্স মার্কেট (সবজি মার্কেট নামেই, এতো সুন্দর যে বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে এটা একটা সবজি বাজার), থিম্ফু স্টেডিয়াম, ভুটান ট্যুরিজম কাউন্সিল বিল্ডিং, এবং চুবচুর কাছে অসম্ভব সুন্দর একটা পার্ক আছে, নদীর পাড়ে ছোট একটা ঝর্ণার পাশে যত্ন করে বানানো। খাবার কিনে নিয়ে বসলে অবলীলায় এক বেলা কাটিয়ে দেয়া যায় নদীর অব্যক্ত কথা শুনতে শুনতে (কিন্তু প্লিজ খাবারের উচ্ছিষ্ট বা প্যাকেট ফেলে নোংরা করবেন না, পার্কের মধ্যে অনেক বিন আছে).

.
থিম্ফু এই পর্যন্তই। এর পরে ফিরবো পারো নিয়ে।

চলবে।.......

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz
#Bhutan #tour #travel #guide #bengali #Bangladesh #thimpu #paro #Punakha .
#ভুটান #ভ্রমন #থিম্পু #পারো #পুনাখা #গাইড #ভ্রমন-গাইড

descriptionRe: বাংলাদেশ থেকে ভুটান ভ্রমণের প্রয়োজনীয় তথ্য Bhutan trip from Bangladesh complete Guide

more_horiz
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum